আমার না পাওয়ার গল্প 2: একটি বাস্তব ভালোবাসার উপাখ্যান (Part 2)
কখনো মাক্স ছাড়া ইস্কুলে আসতে দেই নাই। কখনো অনুমতি ছাড়া কোথাও যাইতো না তনু। এমন একটা অবস্থা ছিলো তনু যদি আমার কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলতো তাও আমার খারাপ লাগতো তাই কোন ছেলে বন্ধুর সাথে কথা বলতে দিতাম না। ওর কিছু লাগলে ওর আইডি থেকে আমি মেসেজ দিতাম। আর আমিও সব সময় ওর কথার গুরুত্ব দিতাম।
তনু কলেজে কুমিল্লা ভর্তি হতে চাইছিলো ওর ফ্যামিলিও রাজি ছিলো কিন্তু আমি মানা করছি সেটার কারণে সে কুমিল্লা ভর্তি হয় নাই। এমন কথা শুনতো আমার। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩বার ছবি দিত সকালে ঘুম উঠে ৪-৫টা, গোসল করে এসে ৪-৫টা রাতে ঘুমানোর আগে ৪-৫টা এমন করে ৫হাজার ১শ ২১টা ছবি ছিলো তনুর। আমরা মোট ৩২বার দেখা করছি ইস্কুলের বাহিরে। আমরা যে রিলেশনে ছিলাম ইস্কুলের কেউ যানতো না শুধু আমার কয়েকটা বন্ধু যানতো। সবাই যানছে বিয়ের দিন ঐটা পরে বলতেছি।
আর আমাদের পালাই যাওয়ার প্লেন ক্যান্সেল হওয়ার পর অনেকটা কেমন যানি হয়ে যাই ২জনে। বিয়ের সময় যত সামনে কাছে আসতেছিলো তত খালি খালি লাগতেছিলো। মনে করছিলাম ২-১মাস কষ্ট পাবো পরে সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু না হইলো তার উল্টোটা। এর মধ্যে আমি আবার তনুর বাড়িতে যাই গিয়ে চাও খাইচিলাম ওদের ঘরে। আমাদের ১ম দিন থেকে শুরু করে বিয়ের দিন পর্যন্ত ১দিনের জন্যও কখনো কথা বলা মিস হয় নাই। খাওয়া ঘুম আর গোসল ছাড়া সারা দিন মেসেজ করতাম এমনও হতো কলে কথা বলতে বলতে ঘুমিও যাইতাম। আমরা নিজেরাও বুঝি নাই কখন এমন ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে গেলো আমাদের মাঝে।
তো বিয়ের জন্য তনু যখন মার্কেট গেছে আমি দূর থেকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখছি বিয়ের শাড়িটা পর্যন্ত আমি পছন্দ করে দিছিলাম। আর তনুকে দেখার জন্য জিবনে অনেক পাগলামি করছি। শীতের সকাল ৭টায় উঠে ৮টার আগে বাজারে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতাম শুধু একটা নজর দেখবো বলে। আমি যে জায়গায় দাড়িয়ে থাকতাম তনু দেখতোও না শুধু আমার সামনে দিয়ে হেটে গিয়ে প্রাইভেট ডুকটো এটাই দেখা কারণ আমি তখন প্রাইভেট পরতাম না। পরে প্রাইভেটে আমিও ভর্তি হলাম। এমন কত পাগলামি আছে।
যখন ইস্কুল শেষ হয়ে কলেজে ভর্তি হলো আমি গিয়ে দাড়িয়ে থাকতাম তনু এক গাড়ি থেকে আরেক গাড়িতে উঠবে ঐসময় টুকু দেখার জন্য সামনে গিয়ে কথা বলতে পারতাম না সাথে অন্য মেয়েরা থাকতো আমাদের এই সম্পর্ক তো কেউ যানতনা তাই। এমনও অনেক দিন আছে সকাল ৭টায় বাহির হইতাম ঘর থেকে, তনুর এলাকায় চলে যাইতাম এক সাথে কথা বলতে বলতে হেটে হেটে বাজারে আসবো বলে।
তনু আমি একটা সিদ্ধান্ত নিচিলাম সব বাধা পেড়িয়ে যেহেতো যাইতে পাবো না ২জনে মারা যাবো। ২জনে ২টা চিটি লিখচিলাম পরিবারের উদেশ্যে। আমাদের টার্গেট ছিলো বিয়ের দিন করবো যা করার কারণ একদিন বেশি বাচলে একদিন বেশি কথা বলতে পারবো আমরা, একদিন বেশি দেখতে পারবো ২জন ২জনকে। এই জন্য তনুর জন্য ৭টা আর আমি ১০টা ঘুমের ঔষধ কিনলাম।
এমন করতে করতে বিয়ের দিন চলে আসলো বিয়ের আগের দিন আমরা বাহিরে দেখা করি তনু আমার পা ধরে কান্না করছে পালাই যাওয়ার জন্য কিন্তু আমি পারি নাই কেনো যানি।
২০২৪সালের জানুয়ারীর ৩০ তারিখ হলুদ সন্ধ্যা ছিলো তনুর, আমি গেছিলাম ঐ জায়গা তো যাওয়ার পর তনু বোন বলতেছে, “সাইদুল তোমার বান্ধুবীর তো মন খারাপ ওরে নিয়ে একটু মজা করো নাচো।” এটা বলার পর উনার চোখ যায় আমার হাতের দিকে কাচে গ্লাস হাতের মুঠে রেখে চাপ দিয়ে ভাঙার কারনে কেটে গেছিলো হাত। উনি কিছুটা বুঝতে পারছে আমাদের বিষয়টা আমাকে আলাদা একটা জায়গায় নিয়ে উনি জিজ্ঞেস করতেছিলো আমি অস্বীকার করছিলাম সব। একটা পর্যায় আমার চোখ থেকে পানি পরা শুরু করলে উনি সবটা বুঝতে পারে আমিও বলি সবটা। উনি আমাকে বলছিলো, “এমন হলে তুমি নিয়ে যাও নাই কেনো?” উওর দিতে পারি নাই। তনুর এই বিয়েতে দিদির কোন মত ছিলো না তাই ঐনি বলছিলো, “আজকে পারলে আজকে নিয়ে যাও।” উনার সাথে অনেক আগে থেকেই আমার সম্পর্ক ভালো। তো আমি চলে আসি ঐদিন।
বিয়ের দিন সকালে গিয়ে ওর বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসছিলাম। রাতে বিয়ে ছিলো আমিও যাই তাকে বউ সাজে দেখে বুকে ব্যথা শুরু হয় তখন থেকে। তো একটা রুমে আমরা সব বন্ধু বান্ধুবীরা ছিলাম তনু বলে, “আমার পাশে বস।” বসলাম। সবাই আমাদের দেখে মুটামুটি বুঝে পেলে আমাদের মাঝে কিছু একটা আছে। তো ২টা বান্ধুবী গিয়ে দরজার সামনে দাড়ায় কেউ যাতে বাহির থেকে কিছু না দেখতে পারে। তখন তনু আমার হাত নিয়ে একটা চুমু দিয়ে বলে, “কখনো ভুলে যাইচ না আমায় সারাজীবন ভালোবাস আমি তোকে।” আমি একটা কথাও না বলে চোখের পানি মুছতে মুছতে বাহির হয়ে যাই।
আমি বাড়ি চলে আসবো বাইকে উঠে যাই কিছু পথ আসার পর মনে হলে যে মানুষকে আমি এতো ভালোবাসার পরও পাবো না সে মানুষটা কে, কে পাবে তাকে একটু দেখার ইচ্ছে হলো আমার। গেলাম গিয়ে দেখে আসলাম আর তনুর জন্য ওর বোন কে বললাম একটা চাদর দিতে কারণ শীত পরতেছিলো অনেক কিন্তু কারো মনে ছিলো না মেয়েটা শীতে কাপতেছিলো যে। আমি চলে আসি বাড়িতে। আসার সময় পুরাটা রাস্তা কান্না করছি ঐদিন সিয়াম নেছারও অবাক হয়ে গেছে আমার কান্না দেখে তাই কোন শান্তনা দেওয়ারও সাহস পায় নাই।
বাড়িতে এসেও পুরাটা সময় ভিডিও কলে তাকে দেখচি। বিয়ে টাও ভিডিও কলে দেখছি হঠাৎ তনু ঘুরে পরে যায় দেখলাম তখন আর নিজেকে কন্টোল করতে পারলাম না ঘর থেকে বাহির হলাম হেটে হেটে চলে যাবো ঐজায়গায়। আবার চিন্তা করি আর যাবো না। এমন করে একবার ঘর থেকে বাহির হই আমার ঘরে ডুকি এমন করতে করতে আম্মু ডাক দে, “কি হইছে এমন করছ কা?” তারপর আম্মুর ডাক দিলে আম্মুর পাশে গিয়ে বসি। এরপর আম্মু বলে, “এমন করছ কা এ কয়দিন ধরে দেখতেছি কেমন যানি চটপট করছ আজকে একটু বেশিই করতেছত কি হইছে? আর এই কয়েকদিন তো ঘরে খাচও না খালি বলে বাহির থেকে খেয়ে আসোস কে খাওয়ায় তোরে?” এগুলো শুনে হাওমাও করে কান্না শুরু করলাম একটানা ৩০-৪০মিনিট কান্না করছি আম্মুর কুলে মাথা রেখে।
তারপর ইচ্ছে হলো তনুর সাথে কথা বলার। সিয়াম অনেক চেষ্টা করেও তনুর সাথে কথা বলাতে পারে নাই আমার। তখন শুনলাম তনুর অবস্থাও ভালো না সে ঔষধ খাইছে তাই আমিও সবার চোখ ফাকি দিয়ে ওয়াশরুম গিয়ে ঔষধ গুলো খেয়ে পেলি। এই দিকে আমার বুকের ব্যথা আরো বেড়ে যায়। এরপর আর তেমন কিছু মনে নাই কিন্তু পুরে শুনছিলাম ঔষধ খাওয়ার ৪-৫দিন আমার হুশ ছিল না মাতালের মতো ছিলাম আর শুধু বলতেছিলাম তনুকে কি কেউ স্পর্শ করছে কিনা সবার কাছে যানতে চাইতেছিলাম। একটা কথাই বার বার বলতেছিলাম সবার কাছে।
তনু নাকি এর মাঝে অনেক বার কল দিছে কি বলছি তাও যানি না কিন্তু একটা কথা শুনলাম তনু ফার্লার এর মেয়ের নাম্বার দিয়ে কল দিছিলো আর কথা বলতে বলতে ঐ মেয়েটা তার মোবাইল নিয়ে আমাকে বলছিলো, “ভাইয়া পরে কল দিয়েন ওর কান্নার জন্য চোখের কাজল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” এটা বলে কেটে দিছে আর আমি মোবাইল ফেলে দিছি আর মোবাইল নষ্ট হয়ে যায়।
বাকি টুকরো আর নাই বললাম ঐটা নিয়ে আলাদা লিখবো।
