আমার না পাওয়ার গল্প: একটি বাস্তব ভালোবাসার উপাখ্যান (Part 1)

আমার না পাওয়ার গল্প: একটি বাস্তব ভালোবাসার উপাখ্যান (Part 1)

সময়টা ছিলো ২০১৮ সাল। নতুন ইস্কুলে ভর্তি হলাম, মোটামুটি ২-৩টা বন্ধু হলো। আমি ঐ সময় ছোট হলেও বড় ভাইদের সাথে খেলাধুলা করতাম, তাই তাদের প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনতাম। ঐ থেকে প্রেম করার ইচ্ছে জাগলো। তো ক্লাসের কোনো মেয়ে ভালো লাগতো না, হঠাৎ করে একদিন একটা মেয়ে দেখতে পেলাম; তাকে দেখে অনেক ভালো লাগলো। কিন্তু সে ছিলো হিন্দু। এমন করে তার দিকে প্রায় সময় তাকিয়ে থাকতাম, স্যারের মাইরও খেয়েছি তার দিকে তাকানোর জন্য। এমন ২-৩ মাস যাওয়ার পর ভাবলাম, হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারবো না, এমনে ঘুরে লাভ নাই। বাদ দিলাম সব। তার কথা আর মনেও নাই, এমনি মাঝে মাঝে ক্লাসে দেখতাম। এমন করে করে ষষ্ঠ-সপ্তম ক্লাস শেষ করলাম এবং তাকে পুরোপুরি ভুলে গেলাম।

এক বছর কোভিড-১৯ এর কারণে ইস্কুল বন্ধ ছিলো, তারপর ক্লাস শুরু হলো; তাকে আবার দেখতে পেলাম। তাকে নিয়ে সবাই কেমন যেন মজা করতো, আচ্ছা ঐ বিষয়টি আর না বলি। একদিন সবাই তাকে নিয়ে কথা বলছিলো, আমি বললাম ওর ফেইসবুক কোনটা, কারো সাথে অ্যাড আছে কিনা? কারো সাথে অ্যাড নাই কিন্তু অনেকেই নাম জানে “চকলেট পাগলি”। কথায় কথায় সবাই আমাকে চ্যালেঞ্জ দিল ৩ দিনের মধ্যে তার আইডি বাহির করে কথা বলার জন্য। যেমন কথা তেমন কাজ, চ্যালেঞ্জ কমপ্লিট করলাম।

এরপর থেকে তার সাথে সবসময় কথা হতো। ফ্রেন্ড থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম, অনেক ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেলো। সে ইস্কুলে না গেলে আমি যেতাম না। একটা পর্যায়ে গিয়ে আমি তাকে ভালোবেসে ফেললাম। এই বিষয়টি সে খেয়াল করছে। সে একদিন হঠাৎ বলতেছে, “কল দে ইম্পর্টেন্ট কথা আছে।” আমি তো নরমাল ভাবছিলাম, কিন্তু সে কল ধরেই জিজ্ঞাসা করছিল, “তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?” আমি বললাম, “না।”

সে বললো, “আমার আর তোর মধ্যে যে সম্পর্কটা আছে, এটাকে তুই কি ভাবছিস? শুধু ফ্রেন্ডশিপ নাকি এর থেকে বেশি কিছু?” আমি তো পুরা অবাক হয়ে শুনতে ছিলাম, পরে ধমক দিয়ে বললো, “কথা বল।” আমি সাহস পাই নাই কিছু বলার, শুধু বলেছি, “ফ্রেন্ডশিপের থেকে বেশি কিছু ভাবি না।” সে বললো, “তাহলে তুই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছিস না কেন? চোখ বাদ দিলাম, আমার সামনে দাঁড়ালে তোর মুখ থেকে কথাই বাহির হয় না, তুতলা হয়ে যাচ্ছিস কেন?” আমি বললাম, “এমন কেন হয় জানি না, কিন্তু ফ্রেন্ডশিপের বাহিরে আমি কিছু ভাবি না।” এটা শুনে সে বললো, “এইটাই শুনতে চাইছিলাম।” কল কাটার পর ঐদিন প্রথম কোনো কারণ ছাড়া কেন জানি অনেকক্ষণ কান্না করছি।

তারপর সব ঠিক চলতেছিলো। একদিন আমরা বন্ধুরা—ছেলে-মেয়ে সবাই মিলে লালমাই ঘুরতে গেছিলাম। ঐ জায়গায় তার বাবা চলে আসে এবং সবাইকেই ভুল বুঝে, মনে করে সেও প্রেম করতে গেছে। এটার পর ইস্কুলেও অনেক ঝামেলা গেছে, আমার ফর্ম ফিলাপ নিয়েও অনেক সমস্যা হয়। ঘটনার ৬-৭ দিন পর তার সাথে যে মেয়েগুলো ছিলো, তাদের বিয়ে দিয়ে দিবে—এমন একটা কথা উঠছিলো। তাই আমি মজা করে তাকে বলি, “তোর বিয়ে কবে?” সে বলতেছে, “ছেলে বিদেশ থেকে আসলেই হয়ে যাবে।” এটা শুনে তো আমি পুরা আকাশ থেকে পড়লাম, মনে হলো—ঐদিন এটা শুনে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারলাম না। আমার মনের কথা সব বলে দিলাম।

সে বললো, “আমি সব আগে থেকেই বুঝতে পারছি এবং তোর এই কথাগুলো শোনার জন্য আমি মিথ্যা বলছি, আমার কোনো বিয়ে ঠিক হয় নাই।” আর সে বলতেছিল, “দেখ সাইদুল, ভালোবাসলেই হয় না; তোর-আমার কোনো দিন মিল হবে না, শুধু শুধু আবেগ বাড়িয়ে লাভ নাই। আজ থেকে আমাদের আর কথা হবে না, যোগাযোগ বন্ধ।” সে মুখে এগুলো বললেও আমার সাথে কথা বলা আর যোগাযোগ ১ দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। কিন্তু সে আমাকে সবসময় কেমন জানি অপমান করতো, ইগনোর করতো, বলতো মেসেজ দেই কেন, আরো কত কী! তারপরও আমি তাকে প্রায়ই বলতাম ভালোবাসি, কিন্তু তার দিক থেকে কোনো উত্তর আসতো না। এর মধ্যে একটা কথা বলে রাখি, রাতে একটু দেরিতে ঘুমানোর জন্য প্রতিদিন দেরি করে ঘুম থেকে উঠতাম আর তার ইনবক্সে থেকে ১টি মেসেজ আনসেন করা থাকতো।

তো এমন করে চলছিলো দিন, কিন্তু হঠাৎ করে তার ফ্যামিলি থেকে বলা হয় তাকে দেখতে আসবে। এটা শুনে তো আমার ঘুম নাই, সকাল হয়ে গেলো তারপরও আমার ঘুম আসতেছিলো না। সকালে তার অনেক বড় একটা মেসেজ আসছে, বরাবরের মতোই। সে মেসেজটা আনসেন করে দেয়, আমি ওটা সাথে সাথে কপি করে ফেলি তাই মেসেজটা দেখে ফেলি। সে আমাকে যে মেসেজটা দিয়ে আনসেন করছিল, ওটায় সে বলে সে আমাকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসে, সেটা নাকি আমি বলার আগ থেকেই। কিন্তু সে কখনো বলে নাই আমাদের মিল হবে না বলে। তারপর যেইটা দেখতে আসছে এটা হয় নাই, পরেরবার আবার আরেক জন আসছে তাকে দেখার জন্য, তারা বিয়ে ঠিক করে যায়। ঐ সময় থেকে ৩ মাস পর ছিলো বিয়ের তারিখ।

তখন দুজনেই অনেকটা ভেঙে পড়ি। কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। তনু এমন কথাও বলছিল যে, “সাইদুল, আমার কিছু হলে তুই বাঁচবি না, জানি। আমি একটা কাজ করি—চল, আমি-তুই রাতে এক জায়গায় দেখা করি, একসাথে বিষ খেয়ে মারা যাবো।” আমি এটার কোনো উত্তর দিতে পারি নাই। এর পরের দিন দুজনেই দেখা করছিলাম আর তনু আমার বুকে মাথা রেখে অনেক কান্না করছিল, আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই ঐদিন। কিন্তু এটা তনুকে বুঝতে দেই নাই।

তনুকে বললাম, “চল পালাই যাই।” তনু প্রথমে রাজি হয় নাই যাওয়ার জন্য, তাই আমিও তেমন জোরজুরি করি নাই। পরে তনু একদিন রাজি হয়, হঠাৎ একদিন মেসেজ দিয়ে বলে, “চল আমরা পালাই যাই।” আমিও সব ঠিক করি, উকিলের সাথে কথা বললাম, কোথায় থাকবো—সব রেডি। বিয়ের ১০-১২ দিন আগে বাহির হবো এমন একটি প্ল্যান ছিলো। কিন্তু জীবনের সব থেকে বড় ভুলটি ছিলো পরিবারকে জানানো। আমি ঘরে জানানোর পর ভাইয়া অনেক ইমোশনাল কথা বলে, এক ধরনের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল। যেমন আব্বু-আম্মু অসুস্থ হবে, অনেক কথা। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, আমি যদি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পাই, তাদের কষ্ট পেতে হবে কেন? তারা কার জন্য কষ্ট করে? আমাদের জন্যই তো। তা হলে যে মানুষটাকে আমি পেলে সুখী হবো, তাকে পেলে তারা কষ্ট পাবে কেন?

আচ্ছা এসব বিষয় বাদ দিলাম। তো ভাইয়া আমাকে এগুলো বোঝানোর পর কেমন যেন সব পাল্টে গেলো, ব্রেইন কেমন যেন উল্টা ঘোরা শুরু করলো। ভাইয়া তনুর সাথেও কথা বলছিল, তনুও মানলো আমরা আর পালাই যাবো না—ঠিক হলো। এখন একটু বলি আমাদের সম্পর্কটা কেমন ছিলো। সচরাচর হিন্দু মেয়েরা তো স্কার্ফ পরে না, কিন্তু তনুকে একদিনের জন্যও স্কার্ফ ছাড়া ইস্কুলে আসতে দেই নাই। কখনো মাস্ক ছাড়া ইস্কুলে আসতে দেই নাই। কখনো অনুমতি ছাড়া কোথাও যায়নি তনু। এমন একটা অবস্থা ছিলো, তনু যদি আমার কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলতো তাও আমার খারাপ লাগতো, তাই কোনো ছেলে বন্ধুর সাথে কথা বলতে দিতাম না। ওর কিছু লাগলে ওর আইডি থেকে আমি মেসেজ দিতাম। আর আমিও সবসময় ওর কথার গুরুত্ব দিতাম। তনু কলেজে কুমিল্লা ভর্তি হতে চাইছিল, ওর ফ্যামিলিও রাজি ছিল কিন্তু আমি মানা করছি—সেটার কারণে সে কুমিল্লা ভর্তি হয় নাই। এমন কথা শুনতো আমার।

প্রতিদিন নিয়ম করে ৩বার ছবি দিত—সকালে ঘুম থেকে উঠে ৪-৫টা, গোসল করে এসে ৪-৫টা, রাতে ঘুমানোর আগে ৪-৫টা। এমন করে ৫ হাজার ১শ ২১টা ছবি ছিলো তনুর। আমরা মোট ৩২বার দেখা করছি ইস্কুলের বাহিরে। আমরা যে রিলেশনে ছিলাম ইস্কুলের কেউ জানতো না, শুধু আমার কয়েকটা বন্ধু জানতো। সবাই জেনেছে বিয়ের দিন, ওটা পরে বলতেছি। আর আমাদের পালাই যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল হওয়ার পর অনেকটা কেমন যেন হয়ে যাই দুজনে। বিয়ের সময় যত সামনে এগিয়ে আসতেছিল, তত খালি খালি লাগতেছিল। মনে করছিলাম ২-১ মাস কষ্ট পাবো, পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না, হইলো তার উল্টোটা। এর মধ্যে আমি আবার তনুর বাড়িতে যাই, গিয়ে চা খেয়েছিলাম ওদের ঘরে।

আমাদের প্রথম দিন থেকে শুরু করে বিয়ের দিন পর্যন্ত ১ দিনের জন্যও কখনো কথা বলা মিস হয় নাই। খাওয়া, ঘুম আর গোসল ছাড়া সারা দিন মেসেজ করতাম, এমনও হতো কলে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়েও যেতাম। আমরা নিজেরাও বুঝি নাই কখন এমন ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে গেলো আমাদের মাঝে। তো বিয়ের জন্য তনু যখন মার্কেটে গেছে, আমি দূর থেকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখছি, বিয়ের শাড়িটা পর্যন্ত আমি পছন্দ করে দিছিলাম। আর তনুকে দেখার জন্য জীবনে অনেক পাগলামি করছি। শীতের সকাল ৭টায় উঠে ৮টার আগে বাজারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম, শুধু একটা নজর দেখবো বলে। আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতাম তনু দেখতোও না, শুধু আমার সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়ে প্রাইভেটে ঢুকতো—এটাই দেখা। কারণ আমি তখন প্রাইভেট পড়তাম না। পরে প্রাইভেটেও আমিও ভর্তি হলাম। এমন কত পাগলামি আছে!

যখন ইস্কুল শেষ হয়ে কলেজে ভর্তি হলো, আমি গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তনু এক গাড়ি থেকে আরেক গাড়িতে উঠবে, ঐ সময়টুকু দেখার জন্য। সামনে গিয়ে কথা বলতে পারতাম না, সাথে অন্য মেয়েরা থাকতো—আমাদের এই সম্পর্ক তো কেউ জানতো না তাই। এমনও অনেক দিন আছে, সকাল ৭টায় বাহির হইতাম ঘর থেকে, তনুর এলাকায় চলে যেতাম এক সাথে কথা বলতে বলতে হেঁটে হেঁটে বাজারে আসবো বলে। তনু আর আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সব বাধা পেরিয়ে যেহেতু যেতে পারবো না, দুজনে মারা যাবো। দুজনে ২টা চিঠি লিখেছিলাম পরিবারের উদ্দেশ্যে। আমাদের টার্গেট ছিলো বিয়ের দিন করবো যা করার, কারণ একদিন বেশি বাঁচলে একদিন বেশি কথা বলতে পারবো আমরা, একদিন বেশি দেখতে পারবো দুজনকে। এই জন্য তনুর জন্য ৭টা আর আমি ১০টা ঘুমের ঔষধ কিনলাম।

এমন করতে করতে বিয়ের দিন চলে আসলো। বিয়ের আগের দিন আমরা বাহিরে দেখা করি, তনু আমার পা ধরে কান্না করছে পালাই যাওয়ার জন্য কিন্তু আমি পারি নাই কেন জানি। ২০২৪ সালের জানুয়ারীর ৩০ তারিখ হলুদ সন্ধ্যা ছিল তনুর, আমি গিয়েছিলাম। ঐ জায়গায় যাওয়ার পর তনু বোন বলতেছে, “সাইদুল, তোমার বান্ধুবীর তো মন খারাপ, ওরে নিয়ে একটু মজা করো, নাচো।” এটা বলার পর উনার চোখ যায় আমার হাতের দিকে। কাচের গ্লাস হাতের মুঠোয় রেখে চাপ দিয়ে ভাঙার কারণে কেটে গিয়েছিল হাত। উনি কিছুটা বুঝতে পারছে আমাদের বিষয়টা, আমাকে আলাদা একটা জায়গায় নিয়ে উনি জিজ্ঞেস করছিল, আমি অস্বীকার করছিলাম সব। একটা পর্যায়ে আমার চোখ থেকে পানি পড়া শুরু করলে উনি সবটা বুঝতে পারে, আমিও বলি সবটা। উনি আমাকে বলছিল, “এমন হলে তুমি নিয়ে যাও নাই কেন?” উত্তর দিতে পারি নাই। তনুর এই বিয়েতে দিদির কোনো মত ছিল না, তাই উনি বলছিল, “আজকে পারলে আজকে নিয়ে যাও।” উনার সাথে অনেক আগে থেকেই আমার সম্পর্ক ভালো।

তো আমি চলে আসি ঐদিন। বিয়ের দিন সকালে গিয়ে ওর বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসছিলাম। রাতে বিয়ে ছিল, আমিও যাই। তাকে বউ সাজে দেখে বুকে ব্যথা শুরু হয় তখন থেকে। তো একটা রুমে আমরা সব বন্ধু-বান্ধবীরা ছিলাম, তনু বলে আমার পাশে বস। বসলাম, সবাই আমাদের দেখে মোটামুটি বুঝে ফেলে আমাদের মাঝে কিছু একটা আছে। তো ২টা বান্ধবী গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ায়, কেউ যাতে বাহির থেকে কিছু না দেখতে পারে। তখন তনু আমার হাত নিয়ে একটা চুমু দিয়ে বলে, “কখনো ভুলে যেও না আমায়, সারাজীবন ভালোবাসিস আমায়, আমি তোকে।” আমি একটা কথাও না বলে চোখের পানি মুছতে মুছতে বাহির হয়ে যাই। আমি বাড়ি চলে আসবো, বাইকে উঠে যাই। কিছু পথ আসার পর মনে হলো যে মানুষকে আমি এতো ভালোবাসার পরও পাবো না, সে মানুষটাকে কে পাবে? তাকে একটু দেখার ইচ্ছে হলো আমার। গেলাম, গিয়ে দেখে আসলাম আর তনুর জন্য ওর বোনকে বললাম একটা চাদর দিতে, কারণ শীত পড়তেছিল অনেক, কিন্তু কারো মনে ছিল না মেয়েটা শীতে কাঁপতেছিল যে।

আমি চলে আসি বাড়িতে। আসার সময় পুরাটা রাস্তা কান্না করছি ঐদিন। সিয়াম-নেছারও অবাক হয়ে গেছে আমার কান্না দেখে, তাই কোনো সান্ত্বনা দেওয়ারও সাহস পায় নাই। বাড়িতে এসেও পুরাটা সময় ভিডিও কলে তাকে দেখেছি। বিয়েটাও ভিডিও কলে দেখছি। হঠাৎ তনু ঘুরে পড়ে যায়—দেখলাম, তখন আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না। ঘর থেকে বাহির হলাম, হেঁটে হেঁটে চলে যাবো ঐ জায়গায়, আবার চিন্তা করি আর যাবো না। এমন করে একবার ঘর থেকে বাহির হই, আমার ঘরে ঢুকি—এমন করতে করতে আম্মু ডাকে, “কী হইছে এমন করছিস কিরে?” এরপর আম্মুর ডাক দিলে আম্মুর পাশে গিয়ে বসি। এরপর আম্মু বলে, “এমন করছিস কেন? এ কয়দিন ধরে দেখতেছি কেমন যেন চটপট করছিস, আজকে একটু বেশিই করতেছিস, কী হইছে?” আর বলে, “এই কয়েকদিন তো ঘরে খাচ্ছিসও না, খালি বলে বাহির থেকে খেয়ে আসোস। কে খাওয়ায় তোরে?” এগুলো শুনে হাওমাও করে কান্না শুরু করলাম, একটানা ৩০-৪০ মিনিট কান্না করছি আম্মুর কোলে মাথা রেখে।

তারপর ইচ্ছে হলো তনুর সাথে কথা বলার। সিয়াম অনেক চেষ্টা করেও তনুর সাথে কথা বলাতে পারে নাই আমাকে। তখন শুনলাম তনুর অবস্থাও ভালো না, সে ঔষধ খেয়েছে। তাই আমিও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ঔষধগুলো খেয়ে ফেলি। এই দিকে আমার বুকের ব্যথা আরো বেড়ে যায়। এরপর আর তেমন কিছু মনে নাই। পরে শুনছিলাম ঔষধ খাওয়ার ৪-৫ দিন আমার হুঁশ ছিল না, মাতালের মতো ছিলাম আর শুধু বলতেছিলাম তনুকে কি কেউ স্পর্শ করছে কিনা, সবার কাছে জানতে চাইতেছিলাম। একটা কথাই বারবার বলতেছিলাম সবার কাছে। তনু নাকি এর মাঝে অনেকবার কল দিছে, কী বলছি তাও জানি না। কিন্তু একটা কথা শুনলাম, তনু পার্লারের মেয়ের নাম্বার দিয়ে কল দিছিল আর কথা বলতে বলতে ঐ মেয়েটা তার মোবাইল নিয়ে আমাকে বলছিল, “ভাইয়া পরে কল দিয়েন, ওর কান্নার জন্য চোখের কাজল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” এটা বলে কেটে দিছে আর আমি মোবাইল ফেলে দিছি, আর মোবাইল নষ্ট হয়ে যায়। বাকিটুকু আর নাই বললাম, ওটা নিয়ে আলাদা লিখবো।

Check Also

HSC Pass Government Jobs in Bangladesh 2026

HSC Pass Government Jobs in Bangladesh 2026 – Complete Job Circular Guide

HSC Pass Government Jobs Bangladesh 2026 – Job Circular Guide Complete guide to HSC pass …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *